গত দুই দিনের থেমে থেমে বৃষ্টিপাতে রাঙামাটিতে পাহাড় ধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের সতর্ক করতে মাইকিং করেছে জেলা প্রশাসন। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে এবং প্রয়োজনে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা যৌথভাবে শহরের বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই সতর্কতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
রাঙামাটি সদর উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে সদর উপজেলার আওতাধীন পৌরসভার ভেদভেদী পশ্চিম মুসলিম পাড়া, শিমুলতলী ও রূপনগর এলাকায় মাইকিং করা হয়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থান না করা এবং ভারী বর্ষণের সময় দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) শেখ সালমান বলেন, `সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের কারণে জেলার বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পাহাড় ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক করতে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার জন্যও আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাঙামাটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক ক্যচিনু মারমা জানান, শনিবার সকাল ৬টা থেকে রোববার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাঙামাটিতে ৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ ছাড়া রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আরও ১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড় ধসে পাঁচ সেনাসদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। পরের বছর জেলার নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড় ধসে আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়। বিগত বছরগুলোতেও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বিচারে পাহাড় কাটা এবং পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসতি স্থাপনের কারণে এসব দুর্ঘটনার ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে।