ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্প আঘাত হানার পর গোল্ডেন সময় হিসেবে পরিচিত ৭২ ঘণ্টা শেষ হয়েছে। কিন্তু এখনো হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে আছেন।
সাধারণত যখন কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে এবং কেউ ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়েন তখন তিনদিন বা ৭২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করলে তাকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু এরপর থেকে মানুষ ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।
বিশেষ করে তিনদিন পর যদি আর পানিও না পান তখন তাদের শরীর নিস্তেজ হতে শুরু করে। এরপর ধীর ও কষ্টের মৃত্যু হয়।
তবে সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে দুর্যোগের পাঁচ থেকে ছয়দিন পরও আটকে পড়া কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব।
ডেভিড ইমানুয়েল ভিয়া নামে মেক্সিকোর উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য জানিয়েছেন, সেখানকার পরিস্থিতি খুবই খারাপ ও কঠিন। তিনি বলেছেন, যেসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলো অনেক উঁচু আর আটকে পড়া মানুষের সংখ্যাও অনেক বেশি।
তিনি বলেছেন, যে দুটি বড় ভূমিকম্প গত বুধবার আঘাত হানে সেগুলোর একটি আরেকটির পরই আসে। আর এগুলো খুব বেশি গভীর ছিল না। এতে করে এত বেশি ভবন ধসে পড়েছে।
আর ভবনগুলো যেভাবে ধসে পড়েছে এতে ভেতরে আটকে পড়া কাউকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তবে আশার কথা শুনিয়ে এই উদ্ধারকারী বলেছেন, তারা এমন পরিস্থিতিতে একজনকে ১০দিন পর জীবিত উদ্ধার করেছিলেন।
রেডক্রসের আমেরিকা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক লয়েস পেস সিএনএনকে বলেছেন, অব্যাহত আফটারশক বা ছোট ভূমিকম্প উদ্ধার অভিযানকে ব্যাপকভাবে ব্যহত করছে। যারা ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে আছেন তাদের তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনা নষ্ট করছে এসব ছোট ভূমিকম্প।
তিনি জানিয়েছেন, ভেনেজুয়েলায় থাকা তার দলের সঙ্গে তিনি যখনই যোগাযোগ করছেন তখনই তারা ছোট ভূমিকম্পের কথা জানাচ্ছেন। যেগুলো তাদের জন্য খুবই আতঙ্কের।
যেহেতু একটু পর পর ভূমিকম্প হচ্ছে তাই উদ্ধারকারীদেরও খুবই সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে।
সূত্র: সিএনএন