সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নসহ নয় দফা দাবি না মানলে ১ দফার ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বিএনপি সরকার জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেনি বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বগুড়ার মহানগরের মাটিডালি বিমান মোড়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের লং মার্চের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, সরকার জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এবং ৯ দফা দাবি না মানলে এক দফার ডাক দিতে বাধ্য হবো। তবে ৯ দফা মানা হলে এক দফার দরকার নাই। কিন্তু তা মানা না হলে এক দফার আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকুন। ৯ দফা মানা না হলে ১ দফার ডাক দিতে আমরা বাধ্য হবো এবং লড়াই করে ১৮ কোটি মানুষের বিজয় ছিনিয়ে আনব।
লং মার্চের বহরটি বিকেল চারটায় বগুড়ায় পৌঁছালে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাদের বরণ করে নেন। মাটিডালি বিমান মোড়ের সংক্ষিপ্ত সভাটি বিশাল জনসমুদ্রে রূপ নেয়। এসময় বগুড়া থেকে শতাধিক গাড়ির বহর নিয়ে নেতাকর্মীরা লং মার্চে যুক্ত হন।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ৭০ ভাগ জনগণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলে রায় দিয়েছিল। আপনারা সেই ভোট চেয়েছেন, আমরাও চেয়েছি। কিন্তু আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে সরকার গঠন করলেও আপনারা জুলাইয়ের সনদ বাস্তবায়ন করেননি।
জ্বালানি ও নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়ে তিনি বলেন, সরকার বলেছিল এক কোটি মানুষকে চাকরি দেবে, কিন্তু এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজির চাবি তুলে দিয়েছে। সারের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট চরমে।
জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, মন্ত্রী বলেন বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই, তার লম্বা বলে বিদ্যুৎ চলে যায়। এমন অবাস্তব কথা লজ্জার।
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, নতুন সংবিধানে রিটেনের চেয়ে ভাইভার মার্ক ডাবল করা হচ্ছে দলীয় ক্যাডার ও সন্ত্রাসীদের বসানোর জন্য। ২৪-এর আন্দোলনে আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছে। বৈষম্য দূর করতে প্রয়োজনে আমরা আবার জীবন দিতে প্রস্তুত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির আরও বলেন, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার ১৩ বছরের সন্তানকে নিখোঁজের পর মৃত পাওয়া গেছে। আমরা আমাদের সন্তানদের নিরাপত্তা চাই। কিন্তু দুঃখের বিষয়, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সর্বমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও নিজের মন্ত্রণালয়ের খোঁজ রাখতে পারেন না।
সমাবেশে উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবারকার লং মার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুরের দিকে। আগামী লং মার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকার দিকে। কোনো হুমকি-ধমকি বা নাটকের পরোয়া আমরা করি না। জনগণের অধিকার আদায় না করে আমরা ঘরে ফিরব না।
এর আগে, লং মার্চটি সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল হয়ে বগুড়ার চান্দাইকোনায় পৌঁছালে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লং মার্চকে স্বাগত জানান। লং মার্চে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, খেলাফত মজলিসসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। মাটিডালির পথসভা শেষে গাড়ি বহরটি রংপুরের অভিমুখে রওনা হয়।