বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিপুল ব্যবধানে জয়ী হওয়ার পরও সরকার জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্যে দিয়ে সরকার যাত্রার প্রথম মুহূর্তেই দেশ ও জাতির সঙ্গে নজিরবিহীন গাদ্দারি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১-দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
এদিন সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ৯ দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়।
মামুনুল হক বলেন, নির্বাচনের আগে রংপুরে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে জুলাই সনদকে বাংলাদেশের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করবেন। কিন্তু পরে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নিয়ে শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে সরকার কার্যক্রম শুরু করেছে।
তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে সরকার জাতির সঙ্গে ‘মুনাফিকি ও গাদ্দারি’ করেছে।
মামুনুল হক বলেন, ‘তোমরা যেমন হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলে, আমরাও হ্যাঁ ভোট চেয়েছিলাম। তোমরা গাদ্দারি করেছ, আমরা গাদ্দারি করতে পারি না। তোমরা বিশ্বাসঘাতকতা করেছো। ১১ দল মীর জাফরের খাতায় নিজেদের নাম লেখাবে না।’
লংমার্চ পরবর্তী সমাবেশ থেকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘৭০ ভাগ মানুষের গণভোটের রায় কার্যকর করেই আমাদের আন্দোলন ক্ষান্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।’
গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ,তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে এ লংমার্চের আয়োজন করে ১১-দলীয় ঐক্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে এটিকে জোটের দ্বিতীয় বড় লংমার্চ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়।
লংমার্চের বহর রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সকাল ৮টার দিকে বহরটি রওনা হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালপাই, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
এছাড়া কয়েকটি স্থানে অনানুষ্ঠানিকভাবে পথসভা শেষে সন্ধ্যায় রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ শুরু হয়।