Wednesday 21st of October 2026
|
|
|
Headlines : * ধলেশ্বরীর ভাঙন হুমকিতে নানা স্থাপনা, বিলীন কবরস্থান-বসতভিটা   * ইয়েমেনে ২৪ ঘণ্টায় ৭৪৪টি হামলা সেনাবাহিনীর, ২০০ হুথি যোদ্ধা নিহত   * মিসরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৩, আহত ৩৪   * ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র   * হরমুজে মাইন বিস্ফোরণে ২ তেলবাহী ট্যাংকারে আগুন   * রংপুরে শতবর্ষী ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী   * সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী   * 14 killed as bus, truck collide head-on in Natore   * ইয়েমেনে সেনা প্রশিক্ষণ শিবিরে হুথিদের হামলা, ৫৮ জন নিহত   * নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৪  

   বাংলা সংবাদ
ধলেশ্বরীর ভাঙন হুমকিতে নানা স্থাপনা, বিলীন কবরস্থান-বসতভিটা
  Date : 21-10-2026

মানিকগঞ্জের ধলেশ্বরী নদীর ভাঙনে একের পর এক বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি ও কবরস্থান। ইতোমধ্যে গ্রামের একমাত্র কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে দুই শতাধিক কবর। ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা। শেষ সম্বলটুকুও হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটছে নদীপাড়ের মানুষের।

জানা যায়, মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের যমুনা নদীর শাখা থেকে উৎপত্তি হয়ে ধলেশ্বরী নদী জিয়নপুর ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে কালীগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিলিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ নদীতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় জিয়নপুর ইউনিয়নের লাউতারা গ্রামের মানুষের বসতভিটা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কবরস্থান হুমকির মুখে পড়েছে। গ্রামের প্রায় ৫ হাজার মানুষের একমাত্র কবরস্থানটি রয়েছে ৪০ শতাংশ জমির ওপর। এরই মধ্যে নদীভাঙনে কবরস্থানের প্রায় অর্ধেক জায়গা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এতে প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি কবরও নদীতে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে অবশিষ্ট জায়গাটুকুতেও ভাঙন অব্যাহত থাকায় সেটিও বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীভাঙনের কবলে পড়ে লাউতারা গ্রামের অনেক পরিবার দুই থেকে তিনবার পর্যন্ত বসতভিটা হারিয়েছেন। ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারিয়ে অনেকেই এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় প্রতিনিয়ত আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন তারা। একইসঙ্গে কবরস্থানটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মৃত স্বজনদের কবর জিয়ারত ও দোয়া করতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্বজনদের।

এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত নদীভাঙন রোধ করা না গেলে কবরস্থানের অবশিষ্ট অংশটুকুও বিলীন হয়ে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে গ্রামের মৃতদের দাফনের জন্য নতুন জায়গা পাওয়া নিয়েও সংকট তৈরি হবে। পাশাপাশি লাউতারা এলাকার একমাত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়টিও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি নদীগর্ভে বিলীন হলে প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে। তাই কবরস্থান, বসতভিটা ও বিদ্যালয় রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নদীভাঙনে শুধু কবরস্থান নয়, বিলীন হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প, বসতভিটা ও বিঘার পর বিঘা আবাদি জমি। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, হাটবাজারসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

নদীভাঙনে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল, বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। ঝুঁকিতে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা স্থাপনা। ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি এলাকাবাসীর।

রিনা বেগম নামের এক গৃহবধূ বলেন, ১৫ দিন ধরে নদীভাঙনে ঘরবাড়ি ভেঙে রাস্তায় জিনিসপত্র নিয়ে পড়ে আছি। এখন আমাদের থাকার কোনো জায়গা নেই। সব জমিজমা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে একেবারে শেষ মাথায় এসে ঠেকেছি। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই।

নদীভাঙনের শিকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহীদ মোল্লা বলেন, গত পাঁচ বছরে তিনবার বাড়ি ভাঙনের শিকার হয়েছি। আগে বাড়ি ওই পাশে ছিল। একটু একটু করে ভাঙতে থাকায় এপাশে এসে বাড়ি করেছি। এখন এখান থেকেও সরে অন্য কোথাও যাব, সেই জমিজমাও আর নেই। আশা করি, সরকার আমাদের পাশে দাঁড়াবে। এখানে একটা বাঁধ নির্মাণ করে দিলে যে সামান্য জায়গাটুকু আছে, সেখানে অন্তত বসবাস করতে পারতাম।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, নদীতে আমার দুই বিঘা জমি চলে গেছে। এখন অন্যের জমিতে বর্গাচাষ করে কোনো মতে সংসার চলছে।

আমতলী ফেদু শেখ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরাঞ্জন কুমার সরকার বলেন, এই নদী ভাঙনের কারণে স্কুলের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পারাপারের সমস্যা হচ্ছে। আমাদের এলাকা খুব গরীব অঞ্চল। এই অঞ্চলের মানুষ শিক্ষার প্রতি খুবই আগ্রহ। যদি নদীতে এই স্কুলটি ভেঙে যায় তাহলে এই এলাকার গরীব মানুষের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারবে না। এই স্কুলটি যদি নদী ভাঙন রোধ করে শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে পুরো অঞ্চলের মানুষ এই গরিব মানুষগুলো শিক্ষার আলো পাবে, শিক্ষা বান্ধব পরিবেশ পাবে। সরকারের কাছে অনুরোধ করব এই স্কুলটির পাশে বাদ দিয়ে যাতে স্কুলের ভাঙন রোধ হয় এই আশা রাখছি।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমের শেষ সময়ে নদীভাঙনের তীব্রতা বাড়লেও বর্তমান পরিস্থিতি খুব বেশি বিপজ্জনক নয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন ও সার্ভে কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে শুষ্ক মৌসুমে ভাঙনকবলিত এলাকা ও প্রতিষ্ঠানগুলো রক্ষা করা হবে।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 20        
  
  সর্বশেষ
Experts see huge scope for mustard cultivation in Rangpur region
US allows mining firm Sherritt to deliver fuel to Cuba
ফ্রান্সে সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি, ব্যর্থতা স্বীকার সরকারের
ধলেশ্বরীর ভাঙন হুমকিতে নানা স্থাপনা, বিলীন কবরস্থান-বসতভিটা

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com