হবিগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পুশ-ইন অপচেষ্টা আবারো প্রতিহত করেছে বিজিবি। সোমবার (২৯ জুন) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান।
এর আগে রোববার (২৮ জুন) দিবাগত রাতে চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল সীমান্তে সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে বেশ কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে পুশ-ইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। এসময় সতর্ক অবস্থানে থাকা বিজিবি হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।
মো. তানজিলুর রহমান বলেন, হবিগঞ্জ সীমান্তে আমরা একা নই। বিজিবি, জেলা প্রশাসন, পুলিশ, গ্রাম পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা শ্রমিক ও খেটে খাওয়া মানুষ সবাই একসঙ্গে একটি অটুট সেতুবন্ধন গড়ে তুলেছি। দেশের সীমান্ত রক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের এই দেশপ্রেমই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিটি ইঞ্চি সীমান্ত পাহারা দিচ্ছি। যেকোনো ধরনের পুশ-ইন বা অনুপ্রবেশের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বর্তমানে হবিগঞ্জ জেলা সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং ৫৫ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
বিজিবি জানায়, গত ২৮ জুন রাতে চুনারুঘাট উপজেলার গুইবিল সীমান্ত এলাকায় রাতের আঁধারে বিএসএফের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে পুশ-ইনের অপচেষ্টা চালায় বিএসএফ। বিজিবির দক্ষ টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত শূন্যলাইনে তা প্রতিহত করেছে। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকাবাসীদের সতর্ক অবস্থান ও তথ্যের ভিত্তিতে টহলদল দ্রুত ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি ভারত থেকে পুশ-ইনের প্রচেষ্টা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ১৬টি বিওপি থেকে ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী জনগণের সঙ্গে নিয়মিত উঠান বৈঠক, মাইকিং এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় চা শ্রমিক, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, গ্রাম পুলিশ ও আনসার-ভিডিপি সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পুশ-ইন প্রতিরোধে ও এ সংক্রান্ত তথ্য প্রদানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছেন। এই ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফলে হবিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পুশ-ইন বা অবৈধ অনুপ্রবেশ ঘটতে পারেনি। ৫৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে।
সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবির সঙ্গে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, আনসার-ভিডিপি, স্থানীয় কৃষক, চা বাগানের কর্মী ও খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অনন্য সেতুবন্ধন তৈরি হয়েছে। পুশ-ইন প্রতিরোধে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সীমান্ত রক্ষায় একযোগে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুন রাতে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া সীমান্ত এলাকায় রাতে বিএসএফের সিকিউরিটি লাইট বন্ধ করে পুশ-ইনের অপচেষ্টা বিজিবির দক্ষ টহল দল তাৎক্ষণিকভাবে সীমান্ত শূন্য লাইনে প্রতিহত করে।