যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি গতকাল মঙ্গলবার দেশটির আধা সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে তাসনিম নিউজকে ঘারিবাবাদি বলেছেন, গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে মার্কিন বাহিনীর হামলার জবাব দিতে এবং হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আসন্ন আগ্রাসন’ প্রতিহত করতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তেহরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার।
“হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের সার্বভৌম অধিকার ইরান যে কোনো মূল্যে রক্ষা করবে। এর সঙ্গে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার ব্যাপারটি সরাসরি জড়িত। আমরা আর কোনো ইস্যুতে কখনও যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে আলোচনার জন্য অনুরোধ করব না”, তাসনিম নিউজকে বলেছেন ঘারিবাবাদি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরু এবং টানা ৪০ দিন তা অব্যাহত থাকার পর ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে তেহরান এবং ওয়াশিংটন। তার দু’মাসেরও বেশি সময় পর ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতার ভিত্তিতে ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি (ইসলামাবাদ এমওইউ) স্বাক্ষর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
১৪টি শর্ত সম্বলিত সংক্ষিপ্ত সেই চুক্তিটির একটি শর্ত ছিল— আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলো লক্ষ্য করে হামলা বন্ধ করবে ইরান এবং তার পরিবর্তে দেশটির তেলের ওপর জারি করা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং বন্দরগুলো থেকে অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র।
গত ৫ জুলাই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে হরমুজে আমিরাতের দুই ট্যাংকার জাহাজে ড্রোন হামলা করে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভিজাত শাখা আইআরজিসি। সেই হামলার জবাব দিতে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনাল লক্ষ্য করে টানা বোমা বর্ষণ শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম।
এই নতুন দফার সংঘাতের মধ্যেই গত ১৩ জুলাই সোমবার ইরানের বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ জারির নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সেই সঙ্গে এই দিন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে ‘অভিভাবক’ হিসেবে হরমুজ প্রণালি এবং এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই বাবদ প্রণালিতে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে ২০ শতাংশ হারে টোল প্রদান করতে হবে।
ট্রাম্প এই ঘোষণা দেওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদ এমওইউ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দিলো ইরান।
এদিকে সেন্টকমের মুখপাত্র অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বার্তায় বলেছেন, বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ পুনরায় জারির পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা করছে ইরান।
সূত্র : এএফপি