অ্যানিমেশন সিনেমা ‘দ্য লায়ন কিং’-এ সিংহশাবক সিম্বার রাজা হয়ে ওঠার গল্প মুগ্ধ করেছে কোটি দর্শককে। এবার সিনেমার গল্প নয়, আফ্রিকার বন্যপ্রকৃতি থেকে উঠে আসছে এক বাস্তব সিংহশাবকের রাজা হয়ে ওঠার অবিশ্বাস্য কাহিনি। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের নতুন চার পর্বের ডকুমেন্টারি সিরিজ ‘লায়ন’-এ দেখা যাবে সেই গল্প।
কেনিয়ার বিখ্যাত মাসাই মারা ন্যাশনাল রিজার্ভে টানা চার বছর ধরে ‘কিও’ নামের একটি বন্য সিংহশাবকের জীবন ক্যামেরাবন্দী করেছেন নির্মাতারা। শৈশব থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ সিংহ এবং নিজের দলের নেতৃত্বে উঠে আসার পুরো যাত্রাই তুলে ধরা হয়েছে এই সিরিজে।
বন্যপ্রাণী বিষয়ক নির্মাণের ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সময় ধরে কোনো একটি সিংহশাবকের জীবন অনুসরণ করার ঘটনা বিরল। ‘লায়ন’ নির্মাণে স্থানীয় কেনীয় চিত্রগ্রাহক ও নির্মাতাদের নিয়ে গঠিত দলটি চার বছর ধরে ৫২টি আলাদা পর্যায়ে কাজ করেছে। কিওর পালের পেছনে তারা কাটিয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৪০০ দিন।
তবে এটি শুধু একটি সিংহের বেড়ে ওঠার গল্প নয়। বন্য পরিবেশে টিকে থাকার সংগ্রাম, শিকার, বিপদ, পরিবার ও নেতৃত্বের পাশাপাশি প্রকৃতির নানা অনিশ্চয়তাও উঠে আসবে সিরিজটিতে।
কিওর বেড়ে ওঠার সময় তার চারপাশের জিরাফ, জেব্রা ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর জীবনও ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। এমনকি হঠাৎ হাতির ডাক শুনে ভয় পেয়ে মায়ের কাছে ছুটে যাওয়ার মতো বিরল মুহূর্তও রয়েছে সিরিজটিতে। ফলে তথ্যচিত্র হলেও নির্মাতারা এতে সিনেমার মতো আবেগ, নাটকীয়তা ও উত্তেজনা ধরে রেখেছেন।
‘লায়ন’-এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন ‘দ্য লায়ন কিং’ (২০১৯) সিনেমার পরিচালক জন ফেভরু। তিনি সিরিজটির অন্যতম প্রধান নির্মাতা। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন বিবিসি স্টুডিওস ন্যাচারাল হিস্ট্রি ইউনিটের মাইক গানটন। সিরিজটির আবহসংগীতে রয়েছেন অস্কারজয়ী সংগীতশিল্পী হ্যান্স জিমার।
জন ফেভরুর ভাষায়, চার বছর ধরে বনে সিংহের পালকে অনুসরণ করার অভিজ্ঞতা তাদের বারবার বিস্মিত করেছে। কিও যেসব প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে নিজের বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে, সেটিকে তিনি প্রকৃতির বুকে একটি ‘হিরোস জার্নি’ বা বীরের যাত্রার সঙ্গে তুলনা করেছেন।
‘লায়ন’ ডকুমেন্টারি সিরিজটি ১৯ আগস্ট ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক চ্যানেলে প্রচারিত হবে। পরদিন, অর্থাৎ ২০ আগস্ট থেকে এটি দেখা যাবে ডিজনি প্লাস ও হুলুতে।