সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী উভয়ই মুসলিম দেশগুলোর জনগণের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিসের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমারসে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে তিনি বলেন, সৌদি আরবের সরকার মক্কায় হুথিদের ড্রোন হামলার চেষ্টার কথা প্রচার করে অন্যান্য মুসলিম সরকার এবং তাদের সেনাবাহিনীর সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছে। তারা এই ড্রোন হামলাকে ইসলামের পবিত্রস্থানে হুথিদের আগ্রাসন হিসেবে প্রচার করছে।
অপরদিকে হুথি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলছে। তারা বলছে, ফিলিস্তিন ও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় নিপীড়িত মুসলিমদের পাশে না দাঁড়িয়ে সৌদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
দোহার এ প্রফেসর বলেছেন, আজ হুথিদের প্রধান নেতা আব্দুল মালিক আল-হুথি ভাষণ দিয়েছেন। সেখানে তিনি ২০১৫ সালের কথা উল্লেখ করেছেন। যখন সৌদির নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। এছাড়া গত জুলাইয়ে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদির বিমান হামলার কথাও উল্লেখ করেন আব্দুল মালিক। মালিক বলেন, সৌদি এখানে আগ্রাসনকারী। অপরদিকে হুথিরা তাদের রক্ষায় রক্ষণাত্মক অবস্থান নিয়েছে।
প্রফেসর মোহাম্মদ এলমারসে আরও বলেছেন, অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সৌদি আরব এখন খুবই বেকায়দায় আছে। তিনি বলেন, সৌদি আরব এশিয়ায় যে তেল রপ্তানি করত তার ৭৫ শতাংশ আসত হরমুজ প্রণালি দিয়ে। যুদ্ধের কারণে যখন এটি বন্ধ হয়ে গেলো তখন ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে লোহিত সাগরে তেল এনে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে সেগুলো এশিয়ার বাজারে পাঠানো শুরু করে তারা। কিন্তু এখন পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে এখন তাদের জাহাজকে আফ্রিকা ঘুরে এশিয়ায় তেল নিয়ে যেতে হচ্ছে। যার কারণে তাদের তেলের দামও বেড়ে গেছে।
এই ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে ইতিমধ্যে হামলা হয়েছে। এ কারণে এটি চার-পাঁচ সপ্তাহ বন্ধ থাকতে পারে। আর এ মুহূর্তে সৌদি অন্যান্য দেশগুলোর সহায়তা চাইছে। কিন্তু তারা সেই সহায়তার প্রতিশ্রুতি কোনো দেশ থেকে এখনো পায়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সূত্র: আলজাজিরা