Wednesday 30th of September 2026
|
|
|
Headlines : * Stocks temper gains as oil pares heavy losses, US data in focus   * Oil down, but stocks lower as bond yields rise   * One third of world population exposed to harmful air pollution: monitor   * ট্রাম্পকে সরাতে ভোটারদের আহ্বান আইআরজিসির   * রাজধানীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৪০১   * যশোরে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ২৬ সোনার বার উদ্ধার   * আশ্রয়প্রার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া   * Bangladesh explores AI, semiconductor partnerships in California   * চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পরোক্ষ কূটনীতিতে ফিরলো যুক্তরাষ্ট্র-ইরান   * যুক্তরাষ্ট্রের থেকে নতুন প্রস্তাবের জবাব আসতে পারে আজ, আশা ইরানের  

   বাংলা সংবাদ
আশ্রয়প্রার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাচ্ছে মালয়েশিয়া
  Date : 30-09-2026

মিয়ানমারের প্রায় দেড় হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে মালয়েশিয়া। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া ‘অপস পিয়ার ১.০’-এর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৪৭৬ জনকে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। দুই দেশের বৃহত্তর সমঝোতার আওতায় ধাপে ধাপে মোট ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

মালয়েশিয়া সরকার বলছে, পুরো প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া স্বেচ্ছামূলক, নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তবে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধের মধ্যে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন।

মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (কেডিএন) উপ-মহাসচিব (নীতি ও নিয়ন্ত্রণ) দাতুক মাখজান মাহিউদ্দিন জানান, দেশটির ১৪টি ইমিগ্রেশন আটককেন্দ্র থেকে প্রথম ধাপের এসব ব্যক্তিকে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৩৭০ জন পুরুষ, ৭৯ জন নারী, ২০ জন ছেলে ও ৭ জন মেয়ে। তাদের বয়স ৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে।

আটকদের বহনকারী ৪৬টি বাস ভোর ৪টা থেকে পর্যায়ক্রমে মানজুং মিউনিসিপ্যাল কাউন্সিল স্টেডিয়ামে পৌঁছায়। সেখানে পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই শেষে তাদের লুমুতের রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি (টিএলডিএম) ঘাঁটিতে নেওয়া হয়।

লুমুত নৌঘাঁটির কেডি শ্রী ইন্দেরা সাকতিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মাখজান মাহিউদ্দিন বলেন, মিয়ানমার সরকার এসব নাগরিককে শনাক্ত করে গত ১৩ আগস্ট কূটনৈতিক নোটের মাধ্যমে তাদের তালিকা মালয়েশিয়ার কাছে পাঠায়।

তিনি বলেন, কোনো দেশের নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি প্রয়োজন। বিশেষ করে নাগরিকত্ব যাচাই, প্রয়োজনীয় নথিপত্র, নিজ দেশে গ্রহণ এবং প্রত্যাবাসনের পদ্ধতি নির্ধারণে উৎস দেশের সহযোগিতা অপরিহার্য।

মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার সরকারের মধ্যে আলোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মাখজান বলেন, ‌‘এই কর্মসূচি মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে পারস্পরিকভাবে সম্মত পদ্ধতি অনুসরণ করে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’

প্রথম ধাপের এই অভিযান সমন্বয় করছে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর সঙ্গে রয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও রয়্যাল মালয়েশিয়ান নেভি। আর পুরো কার্যক্রমে প্রধান অপারেশনাল সংস্থা হিসেবে কাজ করছে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ।

ইমিগ্রেশন বিভাগ পরিচয় ও নথিপত্র যাচাই, নিরাপত্তা এবং লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করছে। ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের একটি অংশের কাছে পরিচয়পত্র না থাকায় ইমিগ্রেশন বিভাগ, মিয়ানমার দূতাবাস ও মিয়ানমারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করেছে। এরপর প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি ইস্যু করা হয়।

প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার তাদের নৌবাহিনীর তিনটি জাহাজ পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ইউএমএস মোয়াত্তামা প্রধান জাহাজ হিসেবে প্রত্যাবাসনকারী ব্যক্তিদের বহন করছে। ইউএমএস কিং সিন ফিউ শিন রয়েছে এসকর্ট জাহাজ হিসেবে এবং ইউএমএস থানলউইনকে হাসপাতাল জাহাজ হিসেবে রাখা হয়েছে।

মিয়ানমারের তিনটি জাহাজকে মালয়েশিয়ার নৌবাহিনীর কেডি লেকির ও কেডি তেগুহ সামুদ্রা মালয়েশিয়ার জলসীমার নির্ধারিত পয়েন্ট পর্যন্ত পাহারা দেবে। এরপর মিয়ানমারের জাহাজগুলো নিজ দেশের উদ্দেশে যাত্রা করবে।

এ সময় মালয়েশিয়ান মেরিটাইম এনফোর্সমেন্ট এজেন্সি (এপিএমএম) ও মেরিন পুলিশের টহল নৌযান এবং হেলিকপ্টারের মাধ্যমে আকাশপথে নজরদারিও থাকবে।

মাখজান বলেন, আমরা তাদের একা চলতে দেব না। নির্ধারিত পয়েন্ট পর্যন্ত জাহাজগুলোকে আমাদের নৌবাহিনী এসকর্ট করবে।

এদিকে ইউআইটিএমের যুদ্ধ মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ও নিরাপত্তা-রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. নূর নিরওয়ান্দি মাত নূরদিন বলেন, এই সমঝোতা আন্তঃসীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় কূটনৈতিক পথ ব্যবহারের সক্ষমতা তুলে ধরেছে।

তার মতে, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সমস্যার আঞ্চলিক সমাধানের নীতিতে আসিয়ান দেশগুলোর ভূমিকারও প্রতিফলন ঘটেছে। মিয়ানমার-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় আঞ্চলিক কূটনীতিতে মালয়েশিয়ার ভূমিকা এতে আরও স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অপস পিয়ার ১.০ শেষ হওয়ার পর ইমিগ্রেশন বিভাগ পুরো কার্যক্রমের ফলাফল যাচাই করবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নথিপত্র, নিরাপত্তা, লজিস্টিক এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করবে।
মাখজান জানান, পরবর্তী ধাপে কতজনকে এবং কবে ফেরত পাঠানো হবে, তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই, অপারেশনাল প্রস্তুতি এবং মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে পরবর্তী সমন্বয়ের ওপর পরবর্তী ধাপের সময়সূচি নির্ভর করবে।

তবে দুই দেশই মোট ৫ হাজার মিয়ানমার নাগরিককে ধাপে ধাপে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। মালয়েশিয়া সরকারের ভাষ্য, কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 17        
  
  সর্বশেষ
Venezuela leader admits `abusive` use of anti-hate law
Stocks temper gains as oil pares heavy losses, US data in focus
New Zealand denies breaching climate commitments to EU
Oil down, but stocks lower as bond yields rise

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com