বাগেরহাটে সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে জেলাজুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) মোংলা বন্দরে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও চীনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর তিনি আসবেন হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে। প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যানার, ফেস্টুন আর নেতাকর্মীদের মিছিল-স্লোগানে মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। সকাল থেকেই খানজাহান আলীর মাজার এলাকায় আসতে শুরু করেছেন বিভিন্ন স্থান থেকে আসা মানুষ। প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে হযরত খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুরো মাজার এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।
মোড়লগঞ্জের নিশানাবাড়ি থেকে আসা মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আমি তারেক রহমানকে দেখতে সুন্দরবনের একদম পাশ থেকে রাত তিনটার সময় উঠে এই মাজারে আসছি। প্রধানমন্ত্রীকে এক পলক দেখার জন্য এত কষ্ট করে আসছি। দীর্ঘ ১৭ বছর আমাদের উপর অনেক অত্যাচার জুলুম হয়েছে। তাকে এক নজর দেখতে পারলে আমার আর কোনো আক্ষেপ থাকবে না।
শরণখোলা থেকে আসা সাকিব হাওলাদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে দেখার জন্য আমরা রাত দুইটার সময় ঘুম থেকে উঠে রওনা দিয়েছি। আমাদের পানগুছি নদীতে কোনো সেতু নেই। আমাদের শহরে আসতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। আমরা সব বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে এসেছি। এক নজর দেখতে পেলেই আমাদের সব কষ্ট দূর হয়ে যাবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা শেখ শহীদুল বলেন, আজকে যেন আরেকটি ঈদ। ঈদের নামাজের পরে যেমন অনুভূতি হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমনে আমাদের তেমন অনুভূতি হচ্ছে। আমাদের নেতাকর্মীদের কাছে আজকের দিনের অনুভূতি বলে বোঝানো যাবে না। আমরা খুবই আনন্দিত এবং উচ্ছ্বাসিত।
জেলা মহিলা দলের সভাপতি শাহিদা আক্তার বলেন, সকাল থেকে আমরা হযরত খান জাহান আলী (রহ) এর মাজারে উপস্থিত হয়েছি নেতাকে দেখার জন্য। আমরা তার প্রতীক্ষায় এখানে বসে আছি। আমরা আজ অত্যন্ত খুশি। এই দিনটি আমাদের কাছে মনে হয় ঈদের দিন। এই দিনটিকে আমরা ভীষণভাবে উপভোগ করছি।