Saturday 7th of November 2026
|
|
|
Headlines : * Let no one again turn Bangladesh into a subservient state: PM   * গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী   * জেদ্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশি নিহত   * 15 Students of Madrasatul Manar Receive Hifz Awards, Award Ceremony and Annual Prize Distribution Held for Students Completing Hifz in Aftabnagar   * গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের আর কোনো স্থান এ দেশে হবে না : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী   * রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সেনাসদস্য তিতাসের দাফন, বাকরুদ্ধ বাবা-মা   * Trump blames Democrats winning midterms for US stocks fall   * বিশ্ববাজারে আবার বাড়ল তেলের দাম   * ইরানকে ৯০টি আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার দিচ্ছে রাশিয়া   * গাজায় ইসরায়েলের হামলায় শিশুসহ চারজন নিহত  

   বাংলা সংবাদ
আর কেউ যেন এই দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে : প্রধানমন্ত্রী
  Date : 07-11-2026

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যেন দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার হরণ করে বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই হোক এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার।’

তিনি বলেন, ‘এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজন জাতীয় ঐক্য। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের চেতনা মনে-প্রাণে ধারণ করতে হবে।’

শনিবার (আজ) ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের স্বাধীনতাযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণঅভ্যুত্থান-প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনা প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয় স্বার্থ ও স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কখনো আপস করেনি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে তাদের কাছে বাংলাদেশ।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চরম আকার ধারণ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ নভেম্বর দিবাগত রাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়।’ স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে দেশের স্বার্থবিরোধী যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করেছিল।

তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিল এবং সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

পরাজিত অপশক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে তারা বিভিন্নভাবে সংগঠিত হয়ে দেশকে পুনরায় তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরব ও মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করা হয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই অপশক্তির পরাজয় ঘটে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদ বিরোধী দীর্ঘ আন্দোলনে যারা হতাহত হয়েছেন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।’

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও একইভাবে সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সময়ের সঙ্গে প্রমাণিত হয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ছিল দেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ধারণের দিন। বাংলাদেশ যতবার ৭ নভেম্বরের চেতনা থেকে বিচ্যুত হয়েছে, ততবারই দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘দল, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী—এ দেশের সব নাগরিকের গর্বিত পরিচয় একটাই, আমরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই আমাদের ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে। ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় করেছিল। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর তিনি যেভাবে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, ১৯৭১ সালেও একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে রণাঙ্গনে সম্মুখসমরে লড়াই করেছিলেন।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘একটি জাতির ইতিহাস কেবল অতীতের স্মৃতিচারণ নয়; সঠিক ইতিহাস একটি জাতির আত্মপরিচয়, আত্মমর্যাদা ও সম্মিলিত ভবিষ্যৎ নির্মাণের প্রেরণা। আজকের আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, হাজার হাজার কিশোর-কিশোরী ও তরুণ-তরুণী ৭ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছেন।’

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যদি ৭ নভেম্বরের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে বাংলাদেশ আর পথ হারাবে না। যে দেশের তরুণ প্রজন্ম জাতীয়তাবাদে অনুপ্রাণিত নয়, সে দেশের জনগণের ঐক্য সুদৃঢ় হতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা অর্জন একটি ঐতিহাসিক গৌরব। তবে সেই গৌরবের পতাকা সমুন্নত রেখে স্বাধীনতাকে অর্থবহ করে তোলা প্রতিটি প্রজন্মের দায়িত্ব। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো স্বাধীনতার মূলমন্ত্র ধারণ করে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ, মানবিক ও মর্যাদাপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে আত্মনিয়োগ করা।

অভিভাবক হিসেবে তরুণদের সব সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ আগামী নির্মাণে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

দেশের জনগণের প্রতি প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার বিপ্লবের ঐতিহাসিক এই দিনে দেশপ্রেমিক ও গণতন্ত্রকামী মানুষের উচ্চারণ হোক-‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য কেউ, সবার আগে বাংলাদেশ’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ উপদেষ্টা, জাতীয় সংসদ সদস্য, বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধি, তিন বাহিনীর প্রধান, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতিনিধি শিক্ষার্থী, তরুণ, বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্য এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 19        
  
  সর্বশেষ
Rallies across Dhaka mark Solidarity Day, Nayapaltan swamped by people
Let no one again turn Bangladesh into a subservient state: PM
ভারী বৃষ্টিতে গাজায় ৭০ হাজার তাঁবু প্লাবিত
গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়বে, মোবাইল বিলও দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com