Tuesday 30th of June 2026
|
|
|
Headlines : * মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড   * Over 58,000 buildings likely damaged or destroyed in Venezuela: satellite data   * Speaker Hafiz Uddin to join Khameni’s funeral in Tehran   * কুড়িগ্রামে পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ   * ঢাকার ১৯ গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এআই ক্যামেরা চালু, দেড় হাজার মামলা রেকর্ড   * শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা আছে: তথ্য উপদেষ্টা   * হবিগঞ্জ সীমান্তে আবারও পুশ-ইন চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি   * যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি মানলেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে ইরান, বললেন পেজেশকিয়ান   * বন্দর চ্যানেলে দুই জাহাজের সংঘর্ষ, ডুবলো পাথরবোঝাই লাইটার   * ভেনেজুয়েলায় নিহত বেড়ে ১৭১৯, উদ্ধারে ভরসা কেবলই ভাগ্য!  

   বাংলা সংবাদ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
  Date : 30-06-2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এ সময় কাঠগড়ায় হাজির ছিলেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এদিন দুপুর ১টা ৪২ মিনিটে মামলার একমাত্র আসামি ইনুকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসকক্ষে থাকা কাঠগড়ায় তোলা হয়। এর ১০ মিনিট পর ২১১ পৃষ্ঠার রায় পড়া শুরু হয়। ইনুর বিরুদ্ধে আনা আটটি অভিযোগ পড়েন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারক শাহরিয়ার কবীর। সাক্ষীদের কিছু বিবরণ ও তথ্যপ্রমাণের দিক তুলে ধরেন প্রথম সদস্য মঞ্জুরুল বাছিদ। রায়ের পুরো কার্যক্রম বাংলাদেশ টেলিভিশনের সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটরের কাছে প্রতিবেদন জমা দেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। আর এ প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন। একইদিন আমলে নিয়ে ইনুর বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর প্রসিকিউশন-আসামিপক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে ২ নভেম্বর সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

গত বছরের ৩০ নভেম্বর এ মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করে প্রসিকিউশন। সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় ১ ডিসেম্বর। তদন্ত কর্মকর্তাসহ জাসদের এই নেতার বিরুদ্ধে মোট ১০ জন সাক্ষ্য দেন। আসামিপক্ষে সাফাই সাক্ষ্য নেওয়া হয় দুজনের। সাক্ষ্যগ্রহণের এ ধাপের পর চলতি বছরের ২ এপ্রিল থেকে চলতে থাকে যুক্তিতর্ক। এ মামলায় প্রথমেই যুক্তি উপস্থাপন করে আসামিপক্ষ। এরপর প্রসিকিউশনের যুক্তি তুলে ধরা হয়। আর এ পর্ব সম্পন্ন হয় ১৪ মে। ওই দিনই রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল-২। এরপর ২২ জুন রায় ঘোষণার জন্য দিন নির্ধারণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৩০ জুন রায় দেবেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল।

এ মামলায় ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন ১০ জন। এর মধ্যে চাক্ষুষ সাক্ষী তিনজন, বিশেষজ্ঞ দুজন, ভুক্তভোগী পরিবারের একজন, জব্দতালিকা সাক্ষী দুজন, জেলার সাক্ষী একজন ও তদন্তকারী কর্মকর্তা একজন। এছাড়া ডকুমেন্ট প্রদর্শন করা হয় ২০ সিরিজ ও বস্তু প্রদর্শনী পাঁচটি।

প্রসিকিউশনের আনা আট অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ভারতের মুম্বাইভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘মিরর নাউ’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলনকারীদের বিএনপি-জামায়াত ও সন্ত্রাসী-জঙ্গি হিসেবে আখ্যায়িত করে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগের উসকানি দেন হাসানুল হক ইনু। ১৯ জুলাই গণভবনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া সভায়ও অংশ নেন তিনি। ১৪ দলীয় জোটের ওই বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত তথা নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতাকে দমনে ‘শ্যুট অ্যাট সাইট’ নির্দেশনা কার্যকরেও ভূমিকা রাখেন জাসদের এই সভাপতি। এছাড়া ২০ জুলাই দুপুরে আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে নিজ জেলা কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে আন্দোলনকারীদের ছবি দেখে তালিকা প্রণয়নসহ ব্যবস্থা নিতে ফোনে নির্দেশ দেন। তার এমন নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশসহ ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে গত বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি ছোড়েন তৎকালীন এসপি। তাদের গুলিতে নিহত হন শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ।

এছাড়া জুলাই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, ছত্রীসেনা নামানো, হেলিকপ্টার দিয়ে গুলি ছুড়ে হত্যা, বোম্বিং, আটক-নির্যাতনের ষড়যন্ত্র কিংবা পরিকল্পনাসহ সব ধরনের উসকানি দিয়ে শেখ হাসিনাকে নির্দেশনা দিতেন ইনু। একইসঙ্গে কারফিউ জারির মাধ্যমে মারণাস্ত্র ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ড সংঘটনসহ নির্যাতন-নিপীড়নকে কৌশলে সমর্থন করেন তিনি। এছাড়া ২৯ জুলাই শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে হওয়া জোটের আরেকটি সভায় উপস্থিত ছিলেন ইনু। সেখানেও নানান উসকানি দিয়ে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব দেন। ফলে এর মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ১৪ দলীয় জোটের সশস্ত্র ক্যাডারের হত্যাকাণ্ড আর নির্যাতনকে বৈধতা দেন এই আসামি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের একদিন আগে তথা ৪ আগস্ট কারফিউ জারি করে গুলি ছুড়ে ছাত্র-জনতাকে হত্যাসহ শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপ অনুমোদন করেন ইনু।



  
  সর্বশেষ
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ইনুর ১০ বছরের কারাদণ্ড
Over 58,000 buildings likely damaged or destroyed in Venezuela: satellite data
Trump says Iran meeting to take place in Qatar
Speaker Hafiz Uddin to join Khameni’s funeral in Tehran

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com