চট্টগ্রামের খুলশী এলাকা থেকে আটক ৬৩ বিদেশি নাগরিককে সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এক শিশুসহ ৪২ জন পুরুষ ও ২০ জন নারী রয়েছেন।
শুক্রবার সন্ধ্যা ছয়টার পর ৬৩ জনকে আদালতে তোলা হয়। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম-২ মুহাম্মাদ আবুল মনছুরের আদালত প্রত্যেক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে দুটি প্রিজন ভ্যানে করে তাঁদের কারাগারে নেওয়া হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে চীনের পাঁচজন, লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপালের একজন ও ভিয়েতনামের একজন নাগরিক রয়েছেন।
খুলশী থানায় করা সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে গ্রেফতার ৬৩ জনের কারও কাছেই পাসপোর্ট ও ভিসা পাওয়া যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, এসব নথি দেশীয় একটি চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, গ্রেফতার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে অনলাইন প্রতারণার পুরো নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালায় কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও পুলিশের যৌথ দল। অভিযানে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ধারণা, বাংলাদেশে বসে অনলাইন জুয়া ও চাকরির বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণা করতেই এসব বিদেশি নাগরিক দেশে এসেছিলেন।
শুক্রবার বিকেলে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ।
এক ভবনের ১৪ ইউনিট ভাড়া
পুলিশ জানায়, অনলাইন প্রতারণা ও জুয়ার কার্যক্রম চালানোর জন্য চক্রটি বাংলাদেশকে বেছে নেয়। এর সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকও জড়িত। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বহুতল ভবনটির ১৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে তারা কার্যক্রম চালাত। দেড় মাস আগে ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানেই চলত তাদের অনলাইন কার্যক্রম।
ফ্ল্যাটগুলোতে একাধিক সার্ভার, কম্পিউটার, ল্যাপটপসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছিল। অভিযানে এসব সরঞ্জামসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
মাঠপর্যায়ের কর্মীরা গ্রেফতার, মূলহোতারা বাইরে
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ জানান, গ্রেফতার ৬৩ বিদেশি নাগরিক সবাই মাঠপর্যায়ের কর্মী। চক্রটির মূলহোতারা এখনো ধরা পড়েনি। তাঁদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
গ্রেফতার ব্যক্তিদের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, তাঁরা বিভিন্ন চমকপ্রদ ওয়েবসাইট খুলে এবং চাকরির কথা বলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই চক্রের পেছনে কারা রয়েছে এবং গ্রেফতার ব্যক্তিরা কীভাবে এতে যুক্ত হয়েছেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাঁদের কাছ থেকে উদ্ধার করা ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজারের একটি হোটেল থেকে একই অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন চীনের ও একজন তাইওয়ানের নাগরিক। তাঁদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
কক্সবাজারের ওই চক্রের সঙ্গে চট্টগ্রামের চক্রটির কোনো সংযোগ আছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। তবে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে তারা।