বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান নিম্নচাপ ও লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট বৈরী আবহাওয়ায় কুয়াকাটা সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে তিনটি মাছধরা ট্রলার ডুবে গেছে। পৃথক তিনটি দুর্ঘটনায় এখনো ১৩ জন জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া উত্তাল সাগরের কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মহিপুর মৎস্য আড়ত মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, কয়েকদিন ধরে বঙ্গোপসাগর অস্বাভাবিকভাবে উত্তাল থাকায় গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত মাছধরা ট্রলারগুলো চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চর বিজয় সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে ছয় জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় একটি ছোট ট্রলার ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর ট্রলারের মালিক মাসুদ মাঝিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও অপর পাঁচ জেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টার দিকে বঙ্গোপসাগরের প্রায় ১৭ কিলোমিটার গভীরে ১৮ জন জেলেকে নিয়ে মাছ ধরার সময় এফবি মহিমা নামে একটি ট্রলার ডুবে যায়। বুধবার দুপুর পর্যন্ত ১৬ জন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও এখনও দুই জেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, গত রোববার সাগরের প্রায় ৬০ কিলোমিটার গভীরে গলাচিপা উপজেলার খরিদা গ্রামের ইমাদুলের মালিকানাধীন আরেকটি মাছধরা ট্রলার ডুবে যায়। ট্রলারটিতে থাকা ১১ জেলের মধ্যে পাঁচজনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকি ছয়জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আরও অন্তত পাঁচটি মাছধরা ট্রলার আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গভীর সমুদ্রে অবস্থানরত জেলেদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে উপকূলের দিকে ফিরে আসছে।
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করছি।