Monday 21st of September 2026
|
|
|
Headlines : * আইসিসির ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের   * যুক্তরাষ্ট্রের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান   * বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম   * বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩   * জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়ল   * এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে   * Miscreants set fire to bus in Mymensingh   * আইফোন নিতে অপ্রতিমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে মারা হয়: পুলিশ সুপার   * ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ছাড়াল ৪৫ বিলিয়ন ডলার   * সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার  

   বাংলা সংবাদ
গড়াই নদীর ভাঙনে বিলীন ১০ একর জমি, হুমকিতে ৫০০ পরিবার
  Date : 21-09-2026

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার আমলসার ইউনিয়নের কোদলা গ্রামে গড়াই নদীর তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় ১০ একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও অন্তত ২০ একর জমি ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে হুমকির মুখে পড়েছে গ্রামের প্রতিরক্ষামূলক বেড়িবাঁধ।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বেড়িবাঁধের অবশিষ্ট অংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এতে কোদলা গ্রামের অন্তত ৫০০ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে গড়াই নদীর পাড়ে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর স্রোতে একের পর এক ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। এতে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। অনেকেই চোখের সামনে বছরের পর বছর চাষ করা জমি নদীতে হারিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভাঙন বর্তমানে বেড়িবাঁধের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছে। ইতোমধ্যে বাঁধের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙন ঠেকানো না গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই বাঁধের বড় অংশ নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।
কোদলা গ্রামের ৬৫ বছর বয়সী মোকাররম আলী বলেন, নদীর পাড়েই আমার বাড়ি। আমাদের এলাকার অনেকের জায়গাজমি ছিল। নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বেড়িবাঁধের কাছে চলে এসেছে। বাঁধ আর দুই হাত ভাঙলে আমাদের থাকার মতো কিছু থাকবে না।

একই গ্রামের অনিতা রাণী বলেন, বিয়ের পর প্রায় ৩৫ বছর ধরে এই গ্রামে বসবাস করছি। একসময় এখানে মানুষ চাষাবাদ করত, গরু-ছাগল বাঁধত, ছেলেরা মাঠে খেলত। ধীরে ধীরে সব নদীর মধ্যে চলে গেছে। এখন আবার ভাঙন শুরু হয়েছে।

কোদলা গ্রামের বাসিন্দা নাসিমা বেগম বলেন, রাতে ভয় হয়। ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। সবসময় আতঙ্কে থাকি—কখন যে নদী বাড়ির দিকে চলে আসে।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি ভিত্তিতে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা নয়, গড়াই নদীর ভাঙন স্থায়ীভাবে রোধে টেকসই বাঁধ ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত জিওব্যাগসহ প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, গড়াই নদীর শ্রীপুরের কয়েকটি অংশে ভাঙন প্রতিরোধে জিওব্যাগ ফেলার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমলসার-কোদলা এলাকায় নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংসদ সদস্যকে অবহিত করা হয়েছে। ভাঙনপ্রবণ ওই এলাকায় দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে ভাঙন প্রতিরোধে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে মাগুরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন, আমলসার ইউনিয়নের কোদলা এলাকায় নদীভাঙনের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সেখানে কাজ করার অনুমতি পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে শুধু ফসলি জমি নয়, বসতভিটাসহ গ্রামের একটি বড় অংশ গড়াই নদীর গর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই বেড়িবাঁধ রক্ষা ও নদীভাঙন ঠেকাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।



সংবাদটি পড়া হয়েছে মোট : 7        
  
  সর্বশেষ
Dr. Monzur A. Khoda Promotes New Approach to Non-Surgical Pain Care in Bangladesh
New Zealanders pick endangered black robin as Bird of the Year
ICAO assures full cooperation for Bangladesh aviation development
সাভারে পার্ক করা বাসে আগুন

Chief Advisor: Md. Tajul Islam,
Editor & Publisher Fatima Islam Tania and Printed from Bismillah Printing Press,
219, Fakirapul, Dhaka-1000.
Editorial Office: 219, Fakirapul (1st Floor), Dhaka-1000.
Phone: 02-41070996, Mobile: 01720090514, E-mail: muslimtimes19@gmail.com